Banglar Yuva Sathi Online Apply Link: ঘরে বসে অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন? জানুন সম্পূর্ণ পদ্ধতি

Arindam Saha

Published On:

Banglar Yuva Sathi Online Apply Link: রাজ্যজুড়ে চলছে ‘বাংলার যুবসাথী প্রকল্প’-এর আবেদন প্রক্রিয়া। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পগুলোতে বেকার যুবক-যুবতীদের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করে এবং অফলাইন ফর্মে ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ না পাওয়ার দুশ্চিন্তা এড়াতে, ঘরে বসে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে অনলাইনে আবেদন করাটাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা আলোচনা করব যুবসাথী প্রকল্পের অনলাইন পোর্টালের বর্তমান অবস্থা, অনলাইনে আবেদনের সুবিধা এবং ধাপে ধাপে কীভাবে নিজে ফর্ম ফিলাপ করবেন তার সম্পূর্ণ গাইডলাইন।

বাংলার যুবসাথী অনলাইন আবেদন – Banglar Yuva sathi Online Apply Link: Overview

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
প্রকল্পের নামবাংলার যুবসাথী প্রকল্প (Banglar Yuvasathi Prakalpa)
আবেদনের মাধ্যমঅনলাইন এবং অফলাইন
বয়সসীমা২১ থেকে ৪০ বছর (০১/০৪/২০২৬ তারিখের হিসেবে)
ভাতার পরিমাণমাসিক ১,৫০০ টাকা
অফিশিয়াল ওয়েবসাইটhttps://apas.wb.gov.in/

আবেদনের যোগ্যতা (Eligibility Criteria)

আবেদন করার আগে, অফিশিয়াল গাইডলাইন অনুযায়ী আপনি নিচের শর্তগুলো পূরণ করছেন কি না তা নিশ্চিত করুন:

  1. বয়সসীমা: ০১/০৪/২০২৬ তারিখ অনুযায়ী আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  2. বাসস্থান: আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  3. কর্মসংস্থান: আবেদনকারীকে অবশ্যই বেকার (Unemployed) হতে হবে।
  4. শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম মাধ্যমিক (১০ম শ্রেণি) বা সমতুল্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
Read More:  Banglar Yuva Sathi Status Check Online | বাংলার যুব সাথী আবেদন চেক

আপলোড করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Required Documents for Upload)

আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে প্রস্তুত রাখুন। দয়া করে ফাইলের ফরম্যাট এবং সাইজের লিমিটগুলো মনোযোগ সহকারে খেয়াল করুন:

ডকুমেন্টের নাম (Document Name)ফরম্যাট (Format)সর্বোচ্চ সাইজ (Max Size)
মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণপত্র)PDF২ এমবি (2 MB)
মাধ্যমিকের মার্কশিট বা সার্টিফিকেটPDF২ এমবি (2 MB)
আধার কার্ডPDF২ এমবি (2 MB)
ভোটার আইডি কার্ড (EPIC)PDF২ এমবি (2 MB)
ব্যাঙ্কের পাসবুক (প্রথম পাতা)PDF২ এমবি (2 MB)
কাস্ট সার্টিফিকেট (SC/ST/OBC – যদি থাকে)PDF২ এমবি (2 MB)
পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবিJPG/PNG১ এমবি (1 MB)
নিজস্ব স্বাক্ষর (Signature)JPG/PNG১ এমবি (1 MB)

অনলাইন আবেদন পদ্ধতি (Step-by-Step Online Process)

খুব সহজেই নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে যুবসাথী প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ করতে পারবেন:

ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন (Registration)

  1. প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (apas.wb.gov.in) প্রবেশ করুন।
  2. “Banglar Yuvashathi” অপশনে গিয়ে “Click to Apply”-তে ক্লিক করুন।
  3. এরপর “Apply Online” বোতামটি বেছে নিন।
  4. আপনার সচল মোবাইল নম্বর এবং স্ক্রিনে দেখানো ক্যাপচা কোডটি বসান।
  5. “Get OTP”-তে ক্লিক করলে আপনার মোবাইলে একটি ৬ সংখ্যার ওটিপি আসবে। সেটি বসিয়ে “Verify” করলেই মূল ফর্মটি খুলে যাবে।

ধাপ ২: ব্যক্তিগত তথ্য (Personal Details)

  1. নাম: আপনার ফার্স্ট, মিডল এবং লাস্ট নেম ঠিক মাধ্যমিকের অ্যাডমিট বা সার্টিফিকেটের মতো করে লিখবেন (বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রেও স্কুলের রেকর্ড অনুযায়ী নাম হবে)।
  2. জন্মতারিখ: ক্যালেন্ডার থেকে জন্মতারিখ সিলেক্ট করুন। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ০১/০৪/২০২৬ অনুযায়ী আপনার বয়স হিসাব করে নেবে (২১-এর কম বা ৪০-এর বেশি হলে ফর্মটি ব্লক হয়ে যাবে)।
  3. পিতা-মাতার নাম: বাবা ও মায়ের নাম সঠিকভাবে লিখুন।
  4. স্বামী/স্ত্রীর নাম: বিবাহিত হলে স্বামী বা স্ত্রীর নাম দিন, আর অবিবাহিত/বিধবা হলে ড্রপডাউন থেকে সঠিক অপশনটি বেছে নিন।
Read More:  10 Common Mistakes in Yuvashathi Prakalpa Application Form: How to Avoid Rejection

ধাপ ৩: ঠিকানার বিবরণ (Address Details)

  1. গ্রাম, পোস্ট অফিস এবং ড্রপডাউন থেকে আপনার জেলা, ব্লক/মিউনিসিপ্যালিটি, থানা এবং গ্রাম পঞ্চায়েত সিলেক্ট করুন। শেষে সঠিক পিন কোড দিন।
  2. টিপস: যেহেতু পোর্টালটি নতুন, তাই অনেক সময় কিছু ব্লক বা পঞ্চায়েতের নাম তালিকায় না-ও দেখাতে পারে। এমন হলে ২-৩ দিন অপেক্ষা করুন সার্ভার আপডেটের জন্য, অথবা অফলাইনে ক্যাম্পে গিয়ে জমা দিন।

ধাপ ৪: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যাঙ্কের তথ্য (Educational & Bank Details)

  1. বোর্ড: মাধ্যমিক পাসের বোর্ড (যেমন- WBBSE) সিলেক্ট করুন। ওপেন স্কুলের ক্ষেত্রে “Others” অপশন বেছে নিতে পারেন।
  2. রোল ও নম্বর: মার্কশিট দেখে ঠিকঠাক বসান। যদি আপনার বোর্ডে শুধুমাত্র রোল নম্বর থাকে এবং ফর্ম আলাদা করে ‘নম্বর’ চায়, তবে ‘রোল’-এর ঘরে রোল নম্বরটি লিখে ‘নম্বর’-এর ঘরে ‘0’ (শূন্য) বসিয়ে দিতে পারেন।
  3. ব্যাঙ্কের তথ্য: ব্যাঙ্কের নাম, ব্রাঞ্চ, অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড খুব সাবধানে বসান। মনে রাখবেন, এই অ্যাকাউন্টের সাথে যেন আধার এবং ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক থাকে।

ধাপ ৫: ডকুমেন্ট আপলোড এবং সাবমিট (Document Upload & Submission)

  1. ফর্মের শেষে জানতে চাওয়া হবে আপনি অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান কি না। সেখানে “No” সিলেক্ট করুন (শিক্ষামূলক স্কলারশিপ পেলে কোনো অসুবিধা নেই)।
  2. এরপর “Save Basic Details”-এ ক্লিক করুন।
  3. এবার আপনার স্ক্যান করা সমস্ত ডকুমেন্ট (অ্যাডমিট, মার্কশিট, আধার, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক পাসবুক, কাস্ট সার্টিফিকেট, ছবি ও সই) আপলোড করুন। (বিঃদ্রঃ কাস্ট সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করে থাকলে এবং হাতে না পেলে ‘জেনারেল’ হিসেবে আবেদন করবেন)।
  4. সবশেষে ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বক্সে টিক দিয়ে “Final Submit” বাটনে ক্লিক করুন।
Read More:  Yuva Sathi 2026: আপনার কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে DBT লিঙ্ক আছে কীভাবে চেক ও পরিবর্তন করবেন?

সাবমিট হওয়ার সাথে সাথেই স্ক্রিনে একটি ‘অ্যাপ্লিকেশন আইডি’ (Application ID) বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভেসে উঠবে। ভবিষ্যতের জন্য এই নম্বরটি সযত্নে সেভ করে বা প্রিন্ট করে রাখুন।

অনলাইনে ফর্ম ফিলাপের সময় সাধারণ সমস্যা ও তার সমাধান (Server Issues & Solutions)

অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে অনেকেই কিছু সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আবেদন শুরু করার আগে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:

  1. ডকুমেন্ট সাইজ সমস্যা: পোর্টালে ডকুমেন্টের সাইজ পিডিএফ (PDF) এর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ এমবি (2MB) এবং ছবি ও সইয়ের (JPEG/PNG) ক্ষেত্রে ১ এমবি (1MB)-র মধ্যে রাখতে বলা হচ্ছে। তাই পোর্টালে লগইন করার আগেই সমস্ত ডকুমেন্ট স্ক্যান করে সঠিক সাইজে তৈরি রাখুন।
  2. সার্ভার ডাউন বা ক্র্যাশ: দিনের বেলায় পোর্টালে প্রচুর ট্রাফিক থাকার কারণে অনেক সময় সাইট লোড হতে দেরি হচ্ছে বা এরর (Error) দেখাচ্ছে। চেষ্টা করুন সকালের দিকে অথবা গভীর রাতে পোর্টালটি অ্যাক্সেস করার।
  3. ওটিপি (OTP) সমস্যা: রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল নম্বরে অনেক সময় মেসেজ আসতে দেরি হচ্ছে। নেটওয়ার্ক ভালো আছে এমন জায়গায় বসে আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করুন এবং বারবার পেজ রিফ্রেশ করা থেকে বিরত থাকুন।

কেন অনলাইনে আবেদন করা বেশি নিরাপদ ও সুবিধাজনক?

ক্যাম্পে গিয়ে ফর্ম জমা দেওয়ার চেয়ে অনলাইন পদ্ধতিটি বর্তমানে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর মূল কারণগুলো হলো:

  1. তাত্ক্ষণিক কনফার্মেশন: অনলাইনে ফর্ম সাবমিট করার সাথে সাথেই আপনি স্ক্রিনে অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর পেয়ে যাবেন। অফলাইন ক্যাম্পের মতো নম্বর না পাওয়ার বা পরে এসএমএসের জন্য অপেক্ষা করার কোনো ভয় নেই।
  2. ডকুমেন্ট হারানোর ঝুঁকি নেই: আপনার সমস্ত নথি সরাসরি সরকারি সার্ভারে ডিজিটাল ফরম্যাটে আপলোড হয়ে যায়, তাই মাঝপথে কাগজের ফর্ম বা জেরক্স কপি হারিয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।
  3. সহজ স্ট্যাটাস চেক: অনলাইনে আবেদন করলে আপনার পোর্টাল ড্যাশবোর্ড থেকেই খুব সহজেই ফর্মের বর্তমান স্ট্যাটাস এবং টাকা ঢোকার আপডেট সরাসরি ট্র্যাক করা যায়।