আমার জীবনের লক্ষ্য: আদর্শ কৃষক হওয়া (প্রবন্ধ রচনা)

Arindam Saha

Published On:

আজকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে “আমার জীবনের লক্ষ্য – আদর্শ কৃষক হওয়া” বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হল। এই প্রবন্ধটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় বারবার আসা বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। শিক্ষার্থীরা এই লেখা পড়ে সহজেই প্রবন্ধটির মূল ভাব, গঠন ও বক্তব্য বুঝতে পারবে এবং পরীক্ষায় উত্তর লেখার ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করতে পারবে। তাই এই প্রবন্ধটি মনোযোগ দিয়ে পড়া ও প্রয়োজনে সংগ্রহ করে রাখলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

প্রবন্ধ রচনা: আমার জীবনের লক্ষ্য (আদর্শ কৃষক হওয়া)

লক্ষ্যহীন জীবন হালবিহীন নৌকার মতো। গন্তব্য জানা না থাকলে যেমন ঠিকভাবে পথ চলা যায় না, তেমনি জীবনের লক্ষ্য স্থির না থাকলে জীবনে সাফল্য অর্জন করা অসম্ভব। ছাত্রজীবনেই এই লক্ষ্য স্থির করে নেওয়া উচিত। আমার সহপাঠীদের অনেকেই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় অফিসার হতে চায়। কিন্তু আমার জীবনের লক্ষ্য একটু ভিন্ন। আমি পুঁথিগত বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে মাটির কাছাকাছি থাকতে চাই। আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হলো একজন ‘আধুনিক ও আদর্শ কৃষক’ হওয়া।

লক্ষ্য নির্বাচনের কারণ:

আমাদের দেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে কোনো শিক্ষিত তরুণ চাষবাস করতে চায় না। সবাই শহরের চাকচিক্যময় জীবনের দিকে ছুটছে। ফলে অবহেলিত হচ্ছে আমাদের কৃষি ব্যবস্থা। কৃষকের ছেলে আজ আর কৃষক হতে চায় না। কিন্তু সবাই যদি শহরমুখী হয়, তবে মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেবে কে? তাই আমি ঠিক করেছি, আমি তথাকথিত চাকরির পেছনে না ছুটে একজন শিক্ষিত কৃষক হিসেবে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব। আমি মনে করি, একজন কৃষকই হলেন প্রকৃত ‘অন্নদাতা’।

Read More:  বাংলার উৎসব: ধর্মীয়, ঋতুভিত্তিক ও সামাজিক উৎসব নিয়ে প্রবন্ধ রচনা

প্রস্তুতি ও শিক্ষা:

কৃষক হওয়া মানেই পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং একজন সফল চাষি হতে গেলে সঠিক শিক্ষার প্রয়োজন। আমি উচ্চমাধ্যমিকের পর কৃষিবিজ্ঞান (Agricultural Science) নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করতে চাই। মাটির গুণাগুণ, উন্নত বীজ, আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষি-প্রযুক্তি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করব। প্রথাগত চাষবাসের সঙ্গে বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটানোই আমার প্রস্তুতির মূল উদ্দেশ্য।

কর্মপন্থা ও আধুনিকীকরণ:

আমার লক্ষ্য হলো কৃষিকাজকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আমি আমার জমিতে সনাতন পদ্ধতির বদলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করব।

  • উন্নত প্রযুক্তি: ট্রাক্টর, হারভেস্টার এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার ব্যবহার করব।
  • জৈব চাষ: রাসায়নিক সারের বদলে কেঁচো সার বা জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়ে মাটির উর্বরতা রক্ষা করব এবং বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করব।
  • মিশ্র চাষ: কেবল ধান বা গম নয়, আমি অর্থকরী ফসল, ফল ও ফুলের চাষও করব যা অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।

গ্রাম ও সমাজের উন্নয়ন:

আমি কেবল নিজের উন্নতির কথাই ভাবছি না। আমি আমার অর্জিত জ্ঞান গ্রামের দরিদ্র ও অশিক্ষিত কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। তাদের শেখাব কীভাবে কম খরচে বেশি ফসল ফলানো যায়। গ্রামের বেকার যুবকদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। গ্রামের অর্থনীতি যদি শক্তিশালী হয়, তবেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে। আমি আমার গ্রামকে একটি ‘মডেল কৃষি গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

দেশসেবা:

দেশসেবা মানে কেবল সীমান্তে যুদ্ধ করা বা বড় নেতা হওয়া নয়। দেশের মানুষের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দেওয়াও এক মহান দেশসেবা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে দেশে খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। আমি যদি অধিক ফসল ফলিয়ে সেই চাহিদা কিছুটা পূরণ করতে পারি, তবে সেটাই হবে আমার সার্থক দেশসেবা। আমি প্রমাণ করতে চাই যে, কৃষি কাজ কোনো নিচু পেশা নয়, বরং এটিই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড।

Read More:  সলিল চৌধুরী - জীবনী রচনা | সলিল চৌধুরী প্রবন্ধ রচনা

উপসংহার:

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন— “ফিরে চল মাটির টানে।” আমি সেই মাটির টানেই নিজেকে সঁপে দিতে চাই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সোনার ফসল ফলানোর মধ্যে যে আনন্দ ও তৃপ্তি আছে, তা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে পাওয়া সম্ভব নয়। আমি জানি আমার এই পথ চলা সহজ হবে না, কিন্তু দৃঢ় মনোবল আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে আমি আমার লক্ষে পৌঁছাবই। আমি গর্বিত হব সেদিন, যেদিন আমি নিজেকে একজন ‘সফল কৃষক’ হিসেবে পরিচয় দিতে পারব।

শিক্ষা সংক্রান্ত আপডেট, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির খবর, পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি এবং প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটিরিয়াল—সবকিছু এক জায়গায়, নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে আমাদের ওয়েবসাইট karmasangsthan24.in নিয়মিত ফলো করুন। তা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নোটিস ও দ্রুত আপডেট মিস না করতে আমাদের WhatsApp ও Telegram গ্রুপে যুক্ত থাকুন।

Leave a Comment