Instant e-PAN: ব্যাঙ্কে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হোক বা বড় কোনো আর্থিক লেনদেন—প্যান কার্ড ছাড়া এক পা-ও এগোনোর উপায় নেই। কিন্তু অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন হঠাত করেই প্যান কার্ডের প্রয়োজন পড়ে, অথচ হাতের কাছে সেটি নেই। হয়তো হারিয়ে গেছে কিংবা আপনি কখনই আবেদন করেননি।
প্রথাগত পদ্ধতিতে প্যান কার্ডের জন্য আবেদন করে বাড়িতে কার্ড আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সাধারণ মানুষের এই সমস্যার কথা মাথায় রেখেই আয়কর দপ্তর এমন এক দুর্দান্ত সুবিধা চালু করেছে, যার মাধ্যমে আপনি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নিজের প্যান নম্বর জেনারেট করতে পারবেন, তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
Instant e-PAN কী ?
কেন্দ্রীয় সরকারের এই ডিজিটাল উদ্যোগের পোশাকি নাম ‘ইনস্ট্যান্ট ই-প্যান’ (Instant e-PAN)। এটি মূলত একটি ডিজিটাল প্যান কার্ড, যা আয়কর দপ্তর ইলেকট্রনিক ফরম্যাটে ইস্যু করে। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, প্লাস্টিকের প্যান কার্ড আর এই ডিজিটাল কার্ডের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে?
আয়কর দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ই-প্যান কার্ডের আইনি বৈধতা একদম সাধারণ ফিজিক্যাল বা প্লাস্টিক প্যান কার্ডের মতোই। এতে আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ এবং ছবির সঙ্গে একটি কিউআর (QR) কোড থাকে, যা সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ, এটি ব্যবহার করে আপনি ব্যাঙ্কের কাজ থেকে শুরু করে যেকোনো সরকারি কাজ অনায়াসেই মেটাতে পারবেন।
Instant e-PAN আবেদন করার যোগ্যতা কী ?
এই সুবিধাটি পাওয়ার জন্য আপনাকে পকেটের টাকা খরচ করতে হবে না, তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা জরুরি।
প্রথমত, এই পরিষেবাটি শুধুমাত্র তাদের জন্যই, যারা জীবনে প্রথমবার প্যান কার্ড বানাচ্ছেন। অর্থাৎ, আপনার যদি আগে থেকেই কোনো প্যান নম্বর থাকে, তবে আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন না।
দ্বিতীয়ত, আপনার একটি বৈধ আধার নম্বর থাকতে হবে এবং তার সঙ্গে আপনার মোবাইল নম্বরটি অবশ্যই লিঙ্ক করা থাকতে হবে। কারণ, পুরো যাচাই প্রক্রিয়াটি আধার-লিঙ্কড মোবাইলে আসা ওটিপি-র (OTP) মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
Instant e-PAN আবেদন প্রক্রিয়া
আবেদন করার প্রক্রিয়াটি এতটাই সহজ যে, এর জন্য আপনাকে কোনো সরকারি অফিসে লাইন দিতে হবে না বা কোনো দালাল ধরতে হবে না। আপনাকে কেবল আয়কর দপ্তরের অফিসিয়াল ই-ফাইলিং পোর্টালে (Income Tax e-Filing website) যেতে হবে। সেখানে হোমপেজে ‘Quick Links’ ট্যাবের অধীনে ‘Instant e-PAN’ অপশনটি খুঁজে পাবেন।
এরপর ‘Get New e-PAN’ অপশনে ক্লিক করে আপনার ১২ সংখ্যার আধার নম্বরটি দিতে হবে। এরপরই আপনার আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে। সেই ওটিপি দিয়ে ভ্যালিডেট করলেই আপনার নাম, জন্মতারিখ এবং ঠিকানার মতো তথ্যগুলো আধার ডেটাবেস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে।
তথ্য যাচাই করে সাবমিট করার পর আপনাকে একটি অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর দেওয়া হবে। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ১০ মিনিটের মতো সময় লাগে।
Instant e-PAN ডাউনলোড কিভাবে করবেন?
আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আপনি ওই পোর্টালে গিয়েই ‘Check Status/ Download PAN’ অপশন থেকে আপনার নতুন প্যান কার্ডটি পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। চাইলে এনএসডিএল (NSDL) বা ইউটিআইআইটিএসএল (UTIITSL) পোর্টাল থেকেও আবেদন করা যায়, তবে আয়কর দপ্তরের পোর্টালে এটি সবচেয়ে দ্রুত এবং বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
পরিশেষে বলা যায়, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার এই যুগে নথিপত্রের জন্য হাহাকার করার দিন শেষ। আপনার আধার কার্ডের তথ্য যদি ঠিক থাকে এবং মোবাইলের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকে, তবে প্যান কার্ড তৈরি এখন হাতের মুঠোয়। তাই জরুরি প্রয়োজনে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের এই অনলাইন সুবিধার লাভ ওঠান।





