স্কুলে ক্লার্ক ও গ্রুপ ‘ডি’ পদে ১৬ লাখ প্রার্থীর পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি-মার্চে! কত তারিখ পরীক্ষা জানুন

Arindam Saha

Published On:

রাজ্যের সরকার–পোষিত স্কুলে ক্লার্ক (গ্রুপ ‘সি’) ও গ্রুপ ‘ডি’ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে পরীক্ষার সময়সীমা স্পষ্ট হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এই দুই পদে মোট ৮,৪৭৭টি শূন্যপদের জন্য প্রায় ১৬ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

প্রথমে জানুয়ারি মাসে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও, একাধিক প্রশাসনিক ও সময়সূচি–সংক্রান্ত কারণে তা সম্ভব হয়নি। নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন করে পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে ফেব্রুয়ারি–মার্চ মাসে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্লার্ক বা গ্রুপ ‘সি’ পদের পরীক্ষা হতে পারে ২২ ফেব্রুয়ারি, আর গ্রুপ ‘ডি’ পদের পরীক্ষা ১ মার্চ আয়োজন করার তোড়জোড় চলছে।

পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণে কেন দেরি

প্রশাসনিক মহলের মতে, একই দিনে একাধিক বড় সরকারি পরীক্ষা না করাই রাজ্যের নীতি। কারণ, এতে পরীক্ষার্থী ও প্রশাসন—দুই পক্ষেরই সমস্যা তৈরি হয়। জানা যাচ্ছে, West Bengal Public Service Commission-এর মাধ্যমে আয়োজিত ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষাও মার্চের প্রথম সপ্তাহে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার দিন চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় নেওয়া হচ্ছে।

তবে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, খুব শিগগিরই দু’টি পরীক্ষার তারিখই সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হবে।

ক্লার্ক (গ্রুপ ‘সি’) পদের পরীক্ষার কাঠামো

ক্লার্ক পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা হবে মোট ৬০ নম্বরের। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১ নম্বর। প্রশ্ন হবে মাধ্যমিক স্তরের মান অনুযায়ী। বিষয়ভিত্তিক নম্বর বণ্টন নিম্নরূপ—

  • জেনারেল অ্যাওয়ারনেস – ২০ নম্বর
  • জেনারেল ইংলিশ – ১০ নম্বর
  • লজিক্যাল রিজনিং – ১০ নম্বর
  • অ্যারিথমেটিক – ২০ নম্বর
Read More:  Instant e-PAN: মাত্র ১০ মিনিটে বাড়িতে বসেই বানিয়ে নিন বিনামূল্যে, জানুন সহজ উপায়

জেনারেল অ্যাওয়ারনেস অংশে ভারতের ইতিহাস ও ভূগোল, সংবিধান, পরিবেশ সচেতনতা, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ঘটনা, বেসিক কম্পিউটার জ্ঞান ও খেলাধুলা থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রুপ ‘ডি’ পদের পরীক্ষার কাঠামো

গ্রুপ ‘ডি’ পদের লিখিত পরীক্ষা হবে ৪০ নম্বরের। প্রশ্নের মান এখানেও ১ নম্বর করে। প্রশ্নের মান নির্ধারিত হয়েছে অষ্টম শ্রেণির স্তরে। বিষয়ভিত্তিক বিভাজন—

  • জেনারেল অ্যাওয়ারনেস – ২০ নম্বর
  • লজিক্যাল রিজনিং – ১০ নম্বর
  • অ্যারিথমেটিক – ১০ নম্বর

এই পদে সাধারণ জ্ঞান অংশে ভারতীয় সংস্কৃতি, সংবিধান, সাম্প্রতিক খেলাধুলা এবং বেসিক কম্পিউটার জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য কী বার্তা

১৬ লক্ষের বেশি আবেদনকারীর ভিড়ে এই নিয়োগ পরীক্ষা নিঃসন্দেহে রাজ্যের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিলেবাস বড় নয়, কিন্তু প্রশ্নের মানে ভুল করার সুযোগ কম। তাই পরীক্ষার্থীদের এখন থেকেই—নির্দিষ্ট সিলেবাস ধরে প্রস্তুতি, নিয়মিত মক টেস্ট, সময় ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে।

পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলেই মনে করছে প্রশাসন। এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য এই পরীক্ষা শুধু চাকরির সুযোগ নয়, বরং ধৈর্য, পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক প্রস্তুতির বড় পরীক্ষা।

Leave a Comment